![]() |
| www.bdnewstracker.blogspot.com
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আমি ও আমিত্ব’-এর সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সংবিধানের ভিত্তি হচ্ছে, “আমরা জনগণ” সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। জাতীয় সংসদ সংবিধানের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না এবং কোনো আইন সংবিধানসম্মত কি না, তা বিচার করার অধিকার সংবিধান সুপ্রিম কোর্টকেই দিয়েছে।’ ষোড়শ সংশোধনীকে সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় ঘোষণা করেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতি এসব কথা লিখেছেন। গতকাল এই রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যে অলঙ্ঘনীয় ঐক্য গড়েছিলাম, তা শত্রুরা নস্যাৎ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আজ আমরা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে বাস করি। অথচ আজ ঔদ্ধত্য এবং অজ্ঞতাকে আমরা প্রশ্রয় দিয়ে চলছি। কোনো একজন ব্যক্তি দ্বারা কোনো একটি দেশ বা জাতি তৈরি হয়নি। আমরা যদি সত্যিই জাতির পিতার স্বপ্নে সোনার বাংলায় বাঁচতে চাই, তাহলে এই আমিত্বর আসক্তি এবং আত্মঘাতী উচ্চাভিলাষ থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। এই আমিত্ব হলো কেবল এক ব্যক্তি বা একজন মানুষ সবকিছুই করতে পারেন এমন ভাবনা।’
আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির মধ্যে পাঁচজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করার পরও আলাদা করে নিজেরা পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা প্রধান বিচারপতির রায়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তার বাইরে আর কিছু লেখেননি।
তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগর–পরিকল্পনার দিকে তাকাই, তাহলে দেখি যেই ব্যক্তি তাদের নগরের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁকেই তারা স্বীকৃতি দিয়েছে। দাসপ্রথা বিলুপ্তির জন্য আব্রাহাম লিংকনের স্ত্রী মেরি টড স্বীকৃতি পেয়েছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আরও অনেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন জেনারেলও রয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশে একটি রোগ আমাদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। আর সেই রোগের নাম “অদূরদর্শী রাজনৈতিকীকরণ”। এটা একটা ভাইরাস এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের সংস্কৃতিকে তা এমন বিস্তৃতভাবে সংক্রমিত করেছে যে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে বা কল্পনা করতেও পারছেন না যে ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরো জাতি, কোনো একজন ব্যক্তি নন।’
প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘এই বাজে রোগের কারণে নীতিনির্ধারকেরা সবকিছু ব্যক্তিকরণ করে ফেলেছেন। তাঁরা তাঁদের ক্ষুদ্র এবং সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে একটি ভুয়া ও “মেকি গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এটা তাঁরা লজ্জাজনকভাবে আমাদের সংবিধানের অন্যায্য সুবিধা নিয়ে করেছেন। অথচ ১৯৭১ সালে আমাদের শহীদেরা রক্ত দিয়ে এ সংবিধান লিখেছিলেন। আমাদের অবশ্যই এই নোংরা “আমাদের লোক” মতবাদ পরিহার করতে হবে। পরিত্যাগ করতে হবে এই আত্মঘাতী “আমি একাই সব” দৃষ্টিভঙ্গি। দলীয় আনুগত্য বা অর্থবিত্ত নয়, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠান তৈরিতে শুধু মেধার বিবেচনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
প্রধান বিচারপতি এক-এগারো সম্পর্কে লিখেছেন, ‘দুই বছরের জরুরি অবস্থার নামে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আর সেটা ঘটেছিল সেই সময়ের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের দূরদর্শিতার অভাব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে তাদের অনীহার কারণে।’ ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়ে প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে আপিল বিভাগ মত দিয়েছিলেন যে দুটি সংসদীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। তবে শর্ত হলো, বিলুপ্ত হওয়া ৫৮(ক) অনুচ্ছেদের ৩ ও ৪ দফা অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপিল বিভাগের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা যাবে না। এই আদালত উল্লিখিত নির্দেশনা এ কথা মনে রেখে দিয়েছিলেন যে প্রধান বিচারপতির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাহলে রাজনৈতিকীকরণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।’
নির্বাচন যাতে সর্বদাই অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও বেশি ক্ষমতা এবং তার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘এই আদালত লক্ষ করেছেন যে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল যারাই নির্বাচনে হেরে যায়, তারা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এং বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতা করে না। শেষ পর্যন্ত দশম সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এই আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের শূন্য পদগুলো স্বয়ংক্রিয়ভবে পূরণ হবে। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলোর কেউ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলও সংসদে কিংবা কোনো ফোরামে এই প্রশ্ন তোলেনি এবং তার ফল দাঁড়িয়েছে, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেনি।’
রায়ে প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি নিরপেক্ষভাবে এবং কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে না হতে পারে, তাহলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংসদও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সে কারণে আমাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া এবং সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে। জনগণ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা অর্পণ করতে পারছে না। এ দুটি প্রতিষ্ঠান যদি জনগণের আস্থা এবং শ্রদ্ধা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ থেকে বিরত থাকে, তাহলে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অভাবে বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের দিয়ে সংসদ গঠিত হতে পারে না, বরং তা সংসদের নিজের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে ব্যাহত করতে পারে।’
রায়ে বলা হয়েছে, ‘সংসদ যদি যথেষ্ট পরিপক্বতা অর্জন না করে, তাহলে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করার ক্ষমতা সংসদের কাছে ন্যস্ত করা হবে একটি আত্মঘাতী উদ্যোগ। সংসদের কাছে বিচার বিভাগের জবাবদিহি করা উচিত নয়; বরং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক হওয়া। যেসব দেশে বিচারপতিদের সংসদীয় অভিশংসনের ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব দেশের গণতন্ত্র আমাদের তুলনায় বয়ঃপ্রাপ্ত হলেও সেখানে ওই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ সম্ভব হয়নি।’
রায়ে উচ্চ আদালতের বিচারক, নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক, পিএসসির সদস্যসহ সব সাংবিধানিক পদধারীকে অপসারণ–সংক্রান্ত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবনের জন্য এখন সংসদের আর কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে না। অষ্টম সংশোধনীর বৈধতার মামলার রায়ের আলোকে এটি আপনাআপনি কার্যকর হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে বিচারকদের অসদাচরণের কোনো প্রাথমিক অভিযোগ এলে তা প্রথমে প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর পরের দুই জ্যেষ্ঠ বিচারককে নিয়ে তদন্ত করে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সম্মতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের বিধান করে নতুন আচরণবিধি করেছেন।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলের যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ইতিপূর্বে আপিল বিভাগ স্থায়ীভাবে মার্জনা করেনি, এ যুক্তি সঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, এটিই একমাত্র সামরিক আইন দ্বারা তৈরি বিধান নয়, যা এই আদালত অনুমোদন করেছেন। দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন, পঞ্চম সংশোধনীতে আনা জাতীয়তার পরিচয় বাংলাদেশি করা, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘১৯৮৮ সালের রাবার স্ট্যাম্প সংসদে আনা, ২(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল না। ’৭২-এর সংবিধানের অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের প্রত্যক্ষ সংঘাত রয়েছে, তারপরও তাকে সংবিধানে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে ধর্মীয় একটি অভিমন্ত্রে ধর্মীয় ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার সরাসরি বিরুদ্ধে। ১৯৭৯ সালে একটি সামরিক সরকার সংবিধানে এটি প্রতিস্থাপন করলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংসদ তাকে বৈধতা দিয়েছে। সে কারণে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত হয়েছে। আর এভাবে ’৭২-এ সংবিধানে বর্ণিত স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং মূল সংবিধানের চেতনা সমাহিত করা হয়েছে। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্তি দিয়েছেন, সামরিক আইনের কণামাত্রও সংবিধানে থাকতে পারবে না।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যার সুরক্ষায় শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। তাই অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেগপূর্ণ যুক্তি গ্রহণ করতে আমরা অক্ষম। এটাও স্বীকৃত যে উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মৌলিক কাঠামো, আর মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না। আর এই আদালত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থে সুরক্ষা দিয়েছেন।’
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের রায় প্রদানের পরে সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ করেছেন যে সংসদ সদস্যরা রায়ের সমালোচনা করে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। রায় এবং বিচারকদের শুদ্ধতা নিয়ে অসংসদীয় ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন। এটা প্রমাণ করে যে আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিপক্ব।’
রায়ে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিকালে যুক্তি দিয়েছেন যে যদি কতিপয় বিচারক হতে আগ্রহী ব্যক্তি নিজেদের ‘খুব উঁচু, খুব বড়’ এবং ‘জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে গণ্য করেন, তাঁদের বিচার বিভাগে স্বাগত জানাই না। তাঁরা এমনকি চলে যেতে পারেন। আজমালুল হোসেনও তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। এম আমীর-উল ইসলাম ইতিহাসবিদ লর্ড অ্যাক্টনের বরাতে বলেছেন, সকল ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত। কিন্তু নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতার অনুশীলন কার নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত? ইংল্যান্ডের বিচারপতি লর্ড ড্যানিং বলেছেন, ‘কাউকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। আর আসুন বিচারকদেরই বিশ্বাস করি।’ এরপর প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘বিচারকদের প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল অত্যন্ত নির্দয় মন্তব্য করেছেন। তিনি এবং সরকার যদি বিচারকদের ওপর ভরসা না রাখতে পারেন, তাহলে আমি বলব, তিনি ভ্রান্ত এবং তাঁর উচিত হবে তাঁর মক্কেলকে (সরকার) এই পরামর্শ দেওয়া যে এটাই যদি সরকারের ধারণা হয় যে বিচারকেরা স্বাধীন এবং পক্ষপাতহীন নন, তাহলে দেশে আস্থার আর কোনো জায়গাই থাকবে না।’ তিনি লিখেছেন, আজমালুল হোসেনও উচ্চ আদালতের বিচারকদের সম্পর্কে নির্দয় এবং অবমাননকার মন্তব্য করেছেন।
৭০ অনুচ্ছেদ
৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি মনে করেন, ‘এই অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের বেদনাহত এবং অসংগতভাবে তাঁদের অধিকারকে শৃঙ্খলিত করেছে। তাই সংসদের কোনো ইস্যুতেই তাঁরা দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিতে পারেন না। সংবিধানের ৯৫(২)গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো আইন না করা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে নির্বাহী বিভাগকে একটি বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। আর ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব পড়বে।’ তিনি লিখেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ৭০ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো সরকারের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। দলের সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।’
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘সংসদ সদস্যদের যদি সন্দেহের চোখেই দেখা হয়, তাহলে তাঁদের কী করে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের মতো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে ন্যস্ত করা যায়। তাই এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যের চেতনা হলো সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা তাঁদের মনোনীত করা দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন। আসলে তাঁরা তাঁদের দলের উচ্চপর্যায়ের হাতে জিম্মি। তাই ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগ যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন, তার মধ্যে আমরা কোনো বৈকল্য দেখি না। সংসদের হাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হলে বিচারকেরা দলের হাইকমান্ডের অনুকম্পানির্ভর হয়ে পড়বেন।’
হাইকোর্টকে ভর্ৎসনা
প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের রায়ের একটি অংশ তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছিল, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা এটা দেখাচ্ছে যে সংসদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তাঁরা দেওয়ানি মামলাসমূহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর কারণে সাংসদেরা বিচারকদের কার্যত বসে (কর্তৃত্ব অর্থে) পরিণত হয়েছেন, যা উচ্চ আদালতের বিচারকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে হুমকি সৃষ্টি করেছে। সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী সংসদের ৭০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। মাহবুবে আলম এবং মুরাদ রেজা (অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) এই তথ্যের বিষয়ে আপত্তি করেননি। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখতে পাই, আইন প্রণয়নসংক্রান্ত সংসদীয় বিতর্কে তাঁরা কম আগ্রহী। এর পরিণাম হলো আজকের দিনে সংসদে পাস করা বেশির ভাগ আইন ‘ত্রুটিযুক্ত’। অসম্পূর্ণ এবং ‘নিচু মানের’ আইন প্রণয়নে তাঁদের দায়িত্ব উত্তমরূপে পালনের চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে তাঁরা বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। বিচারকদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের বিচার করা আইনপ্রণেতাদের কাজ নয়।’
প্রধান বিচারপতি এরপর মন্তব্য করেছেন, ‘সংসদ সদস্যদের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের উল্লিখিত পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণরূপে অবাঞ্ছিত এবং আমরা কোনোভাবেই এ দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করি না। সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো আদালত বা বিচারকদের এ রকম অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। আদালত এবং সংসদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি থাকা দরকার। একইভাবে সংসদেরও উচিত নয় সুপ্রিম কোর্টের কোনো পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য বা কটাক্ষ করা।’
|
Pages
Islamic Bangla BD, YouTube channel
Islamic Bangla BD is a different kind of Islamic info channel. We provide all Popular Bangla islamic Historical story , waz , info , Hamd , naat & Islamic songs ,Islamic music video and Islamic historical videos. Be connected with us and enjoy and practice our Islamic Bangla BD channel . ,
আসসালামু আলাইকুম ,
আমাদের অনেক দর্শক স্রোতা আছেন যারা ইসলামিক বিভিন্ন তথ্য, ইসলামের সেরা মনিষদের জীবনী , ঐতিহাসিক ইসলামীক শিক্ষনীয় গল্প, মাছলা মাছায়েল , হামদ ও নাতের মিউজিক ভিডিও খুব পছন্দ করেন । সেইসব দর্শক স্রোতাদের কথা চিন্তা করে , রাসুল (সঃ) এর আদর্শকে ধারন করে ইসলামিক বাংলা Islamic Bangla BD চ্যানেল যাত্রা শুরু করে । উপোভোগ ও আমল করুন | আশা করি সব সময় আমাদের সাথেই থাকবেন ও অনুপ্রেরনা দিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে
If you Like our channel pls click Like, Share & Subscribe . thanks
Link https://www.youtube.com/c/IslamicBanglaBD
Mixer Bangla songs YouTube Channel .
Mixer Bangla songs is a different kind of music taste. We provide all Popular Bangla songs Remix music video and Recreational videos . Be connected with us and enjoy all new music video tracks and Recreational funny videos .Hope you enjoy .Music Can Predict About Your Personality. New entertainment channel
আমাদের অনেক দর্শক স্রোতা আছেন যারা বাংলা গানের মিউজিক ভিডিও এবং বিনোদনমূলক ভিডিও খুব পছন্দ করেন । কিন্তু আমাদের দেশের জনপ্রিয় অনেক গায়ক ও গায়িকাদের সুপার হিট গান আছে যার ভালো মিউজিক ভিডিও নাই বা অনেক গানের মিউজিক ভিডিও ভাল লাগেনা । আবার অনেকে আছেন ভিন্ন ধারার/ স্বাদের রিমিক্স ভিডিও খুব পছন্দ করেন আর মজার ভিডিও দেখতে চান সেইসব দর্শক স্রোতাদের কথা চিন্তা করে লাইফ টিভি বাংলা ইউটিউব চ্যানেল তাদের প্রচার শুরু করে। বিনোদনের নতুন চ্যানেল Mixer Bangla songs
Channel Link
https://www.youtube.com/channel/UCgSBJ2G1mBEsWNxaONWbemg
বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৩, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭
শনিবার, মে ১৩, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
কারও কাছে টাকা পাওনা রয়েছে? টাকা
ধার দেওয়ার সময় তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে নির্দিষ্ট একটি তারিখের মধ্যেই
পরিশোধ করে দেবেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে টাকা
ফেরত না দেওয়ায় আপনার পাওনা টাকা ফেরত দিতে তাঁকে অনুরোধ করেন। কিন্তু
বিভিন্ন অজুহাতে আপনার টাকা আর ফেরত দেননি। আপনি ভাবছেন কীভাবে আদায় করবেন
পাওনা টাকা। আপনি কি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন? পারলেও কীভাবে?
টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন
প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না
কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল
স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার
দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং
পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে। যদি
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয়
নেওয়ার সুযোগ থাকবে—বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে
হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র
সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা
কোম্পানির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়, তাহলেও চুক্তিপত্র করে নিতে হবে।
চুক্তিপত্র ছাড়া আইনের অশ্রয় গ্রহণ করা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই
আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা
দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল
করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক
বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায়
এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের
করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে
পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে
প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের
ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে
দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা
পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য
জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের
অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার
কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে।
ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের
নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা
দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের
ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের
করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী
সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।
কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে
কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা
না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম
আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে
পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার
যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
প্রথম আলো ০৩ মে ২০১৭,
, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
কীভাবে আইনের আশ্রয়
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।
কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
- See more at: http://www.notunshomoy.com/details.php?id=24864#sthash.Xm3PpmtE.dpuf
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।
কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
- See more at: http://www.notunshomoy.com/details.php?id=24864#sthash.Xm3PpmtE.dpuf
কীভাবে আইনের আশ্রয়
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।
কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
- See more at: http://www.notunshomoy.com/details.php?id=24864#sthash.Xm3PpmtE.dpuf
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।
কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
- See more at: http://www.notunshomoy.com/details.php?id=24864#sthash.Xm3PpmtE.dpuf
শনিবার, মে ১৩, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
বুড়িয়ে যাচ্ছি—এই ভাবনাটা প্রায়ই আমাদের ভাবায়। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে খুব নিয়ম মেনে চলার পরও নিজের বুড়িয়ে যাওয়া ভাবটা কমাতে পারেন না। মূলত এর পেছনে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সূক্ষ্ম অভ্যাস আমাদের ‘বুড়িয়ে যাওয়া’র মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মনের অজান্তে কোন অভ্যাসগুলো জলদি শরীর ও মনের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেন, মন যদি ভালো থাকে, তাহলে বয়স কখনোই বাড়বে না।
প্রত্যেকেরই পরিমিত পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন। একজন
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় সাত
ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব হয় না। তবে একটানা ঘুমের অভাব হলে তা শরীরে বাড়তি চাপ
ফেলে। শুধু তা-ই নয়, আমরা অনেক সময় অনেক চিন্তাগ্রস্ত থাকি। বয়স অনুযায়ী
আমাদের অতিরিক্ত মানসিক চাপও আমাদের চেহারায় দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে দেয়। তাই
নিজেকে ভালো রাখতে এবং অবশ্যই অল্প বয়সে বুড়িয়ে না যাওয়ার জন্য কিছু চাপ
এড়িয়ে চলাই ভালো।
অতিরিক্ত বসে থাকা
আমাদের অনেকেরই ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশন দেখার অভ্যাস আছে
কিংবা কাজ করতে হচ্ছে সারা দিন বসে বসে। এটিও শরীরের জন্য খারাপ। একটানা
অনেকক্ষণ বসে থাকা শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন আমাদের মেরুদণ্ডে ব্যথা,
কোমরব্যথা, এমনকি পেটের মেদ বাড়াতেও সাহায্য করে। এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত বসে
থাকা। সুযোগ পেলে কাজের ফাঁকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করা বা একদমই সুযোগ না
পেলে বসে ব্যায়াম করতে হবে। এতে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খানিকটা কমবে।
এক পাশ ফিরে ঘুমানো
আমরা অধিকাংশই এক পাশ ফিরিয়ে ঘুমোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
কিন্তু এ অভ্যাস শরীরের ভারসাম্য সমানভাবে রাখতে দেয় না। শুধু তা-ই নয়,
অনেক সময় আমাদের পেশি পুলেরও সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো
উপায়ে ঘুমানোর জন্য পুরো পিঠের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে শোয়াকে উত্তম পন্থা
হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে সঠিকভাবে বসার ব্যাপারেও রয়েছে
নির্দেশনা। অনেকেই বসে কাজ করার সময় খানিকটা আরামের জন্য কুঁজো হয়ে বসেন
কিংবা একটু হেলে বসেন; এটিও শরীরের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
কম চর্বি ডায়েট
নিজেকে ঝরঝরে রাখার জন্য কম চর্বির খাবার খেতে কতই না
দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু অনেক সময় এই চর্বি বাদ করতে গিয়ে আমরা মনের
অজান্তেই আমাদের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডকেও ছাঁটাই করে দিই। আমাদের মুখের
বলিরেখা ও লাবণ্য ধরে রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণ।
কিন্তু শরীরকে ঝরঝরে রাখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছি নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
নো সুগার ডায়েট
অনেকে ভাবেন, চিনি না খেলেই অনেক চর্বি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
কিন্তু এখানেও খানিকটা ভুল ভাবনায় নিজেদের আটকে ফেলেছি। পরিমিত পরিমাণে
চিনিও শরীরের জন্য দরকারি। একেবারে বাদ দিয়ে দিলে অনেক ক্ষেত্রে তা উল্টো
ফল দিতে পারে।
স্ট্র বাদ দিন
আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি কোমল পানীয় পান করে থাকি।
আবশ্যিকভাবে স্ট্র বাদ দিয়ে তা পান করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কিন্তু দীর্ঘদিন স্ট্র ব্যবহারের ফলে আমাদের লিপ লাইনে ধীরে ধীরে রিংকেল
পড়তে শুরু করে। তাই স্ট্র বাদ দিয়ে সরাসরি গ্লাস কিংবা ওয়ান টাইম গ্লাস
ব্যবহার করা ভালো। অপর দিকে যাঁরা খুব একটা কোমল পানীয়ের নেশায় নেই কিন্তু
সিগারেটের নেশায় আছেন, তাঁদের জন্যও আছে সতর্কবাণী। কেননা, আপনি যখন
সিগারেটের ধোঁয়া নিচ্ছেন, তখন একইভাবে আপনারও স্ট্র ব্যবহার করা ব্যক্তির
মতো লিপ লাইন রিংকেল পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
রোদ থেকে এড়ানো সব সময়
খুব বেশি রোদ না হলে আমরা রোদ এড়িয়ে চলি কিন্তু এটিও ঠিক
নয়। সব সময়ই রোদের তাপ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
কেননা, রোদে পোড়া চামড়া চেহারায় আলাদা ভারিক্কিও তৈরি করে। একইভাবে
অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশও আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটি আপনার চামড়ার
স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে আপনার শরীরের চামড়া আরও শুষ্ক করে তোলে।
শুষ্ক ত্বকে তৈলাক্ত ত্বকের চেয়ে দ্রুত বলিরেখা পড়ে। তাই চেষ্টা করুন
স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশে থাকার।
সূত্র প্রথম আলোও
সূত্র প্রথম আলোও
ফাবিহা সাহাব উদ্দিন
০৩ মে ২০১৭, ১১:২৩
শনিবার, মে ১৩, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
এই লেখা লিখতে বসার কয়েক ঘণ্টা আগে আমার দাঁত তোলা হয়েছে। দাঁতের অবস্থা খুব খারাপ। সময়মতো যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। নিইনি। এখন তার মাশুল দিচ্ছি। আপনারা সবাই দয়া করে দাঁতের যত্ন নেবেন। কারণ দাঁতের যন্ত্রণা মহাযন্ত্রণা। দাঁত তোলার যন্ত্রণা প্রায় সমান যন্ত্রণা। তবে সে যন্ত্রণা যত বড়ই হোক না কেন, প্রেম ভাঙার যন্ত্রণার ধারেকাছে আসে না। কারণ, দাঁতের যন্ত্রণা কয়েক দিন থাকে, তারপর দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়। তিনি এই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে সক্ষম হন। সবকিছু মিলিয়ে কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার।
প্রেমভঙ্গের কোনো চিকিৎসক নেই। তাই সে যন্ত্রণার কোনো সহজ
সমাধানও নেই। প্রেম ভাঙাটা আমার কাছে মাসের পর মাস, কিছু ক্ষেত্রে বছরের পর
বছর প্রতিদিন দাঁতব্যথা ও দাঁত তোলার যন্ত্রণার মতো মনে হয়। মারাত্মক
বেদনা।
আমরা যখন কোনো ধরনের মারাত্মক ব্যথা পাই, তখন মেজাজ-মর্জি
খুব খারাপ থাকে। সবার ওপর রাগ ওঠে। যেমন এই মুহূর্তে আমার নিজেকে প্রচণ্ড
একটা ঘুষি মারতে ইচ্ছে করছে। কেন আগে দাঁতের যত্ন নিলাম না। চিকিৎসকের ওপর
রাগ লাগছে, মায়ের ওপর রাগ উঠছে। এ রকম দাঁতওয়ালা ছেলের জন্ম কেন দিলেন।
কিন্তু আমি নিজেকেও ঘুষি মারছি না, চিকিৎসককেও গালি দিচ্ছি না, মাকেও বকা
দিচ্ছি না, এমনকি আমার বিড়ালগুলোর সঙ্গেও যথাসাধ্য ভালো ব্যবহার করার
চেষ্টা করছি।
রাগের মাথায় কখনোই কিছু করা উচিত না। বিশেষ করে যে রাগ
প্রচণ্ড বেদনা থেকে আসে, সেই রাগের মাথায় কখনোই বেদনার প্রতিক্রিয়া দেখানো
উচিত না, সে প্রতিক্রিয়া শারীরিক হোক, মৌখিক হোক অথবা মানসিক হোক।
প্রচণ্ড বেদনা থেকে রাগ হওয়া স্বাভাবিক। পৃথিবীর সব
প্রাণীর বেদনা থেকে রাগ হয়। বাঘ সাধারণত মানুষখেকো হয়ে যায় বড় ধরনের ব্যথা
পেলে। কিন্তু সেখানেই বাকি সব প্রাণী আর মানুষের মধ্যে পার্থক্য। যে কারণে
বান্ধবীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তাকে পাঁচটা ঘুষি মারা অথবা তার ফেসবুক
অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নানা ধরনের অশ্লীলতা করা কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্য
আচরণের মধ্যে পড়ে না।
প্রেম ভেঙে গেলে প্রথম কাজ নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণে আনা
এবং যতক্ষণ রাগ আছে, ততক্ষণ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানো। নিজের প্রতি অথবা
ভালোবাসার মানুষের প্রতি।
সবার রাগ এক রকম সময়ে কমে না। কারও রাগ কয়েক দিনের মধ্যে
কমে যায়, কারও সপ্তাহখানেকের মধ্যে, কারও-বা রাগ কমতে আরও অনেক সময় লাগে।
রাগ যখনই কমুক, সাধারণত রাগের পর শুরু হয় আসল বেদনা। সেই বেদনাটা খুবই বাজে
ধরনের। রাগের আশ্রয় নেওয়া যায় না। চারদিকে একধরনের অসহ্য শূন্যতা ঘুরে
বেড়ায়। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। এ সময়ে নিজের প্রতি মমতা অনুভব করা খুব
জরুরি। একজন মা যেভাবে সন্তানকে আগলে রাখেন, রক্ষা করেন, ক্ষমা করেন—সেভাবে
নিজেকে ক্ষমা করতে হবে। নিজের জীবনের সব ভালো জিনিস মনে করতে হবে। জীবনকে
একটা সহনীয় জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু সব কঠিন কাজের
মতোই এগুলো মারাত্মক জরুরি।
নিজেকে ক্ষমা করতে পারলে আগামীর পরিকল্পনা করতে হবে। রাগ ও
গভীর বেদনা পার হয়ে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে কোথায় ভুল করেছিলাম
এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এই ভুল এড়ানো যায়। আমি আশা করছি যে আমার দাঁতের ক্ষত
একদিন ঠিক হবে। সেটা ঠিক হওয়ার পর আমি যদি আবার ‘যেই কে সেই’ হয়ে যাই,
তাহলে আর লাভ কী হলো। দাঁতটা ভালো করে মাজতে হবে, কয়েক মাস পরপর চিকিৎসকের
কাছে যেতে হবে। আরও কত কী! প্রেমের বা জীবনের সিদ্ধান্তগুলো আরও কঠিন। তাই
আরও কঠিনভাবে তার ওপর মনোনিবেশ করাটাই বাঞ্ছনীয়।
প্রেম ভাঙার পর তিন ধাপ। রাগ, বেদনা ও আগামীর পরিকল্পনা।
এই তিন ধাপেই দুটো বিষয় খুব জরুরি। অন্য কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া আর ভালো
মানুষের আশপাশে থাকা। যে রকম দাঁত তোলার পর আমি এই লেখাটা লিখছি আর
কিছুক্ষণ পরপর আমার সম্পাদককে কারণে-অকারণে ফোন করে জ্বালাচ্ছি।
আসলে প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা কোনো সহজ বিষয় নয়। তবে নিজের
শান্তি ও সভ্যতা বজায় রাখতে এই যন্ত্রণার সঠিক মোকাবিলা করতে হবে। নিজেকে
ভালোবাসার জন্য, অন্যকে ভালোবাসার জন্য।
লেখক: অভিনেতা
ইরেশ যাকের
ইরেশ যাকের
বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭
বৃহস্পতিবার, মে ০৪, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
প্রতিনিয়ত পথ চলতে গিয়ে আমাদের অনেক মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। আর মিশতে গিয়ে কখনও কারও সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, আবার কখনও সম্পর্কটা বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়না। তবে এটা কোন সমস্যা নয়। কারণ সবার সঙ্গে সবার সম্পর্ক ভালো যাবেনা এটাই স্বাভাবিক। সম্পর্কেরও টানাপোড়েন আছে। আর এটা তখনই খারাপ পরিস্থিতিতে গিয়ে দাঁড়ায় যখন আপনি ভুল বোঝাবুঝির শিকার হোন। যখন আপনি দোষ না করেও অন্যের চোখে দোষী। এ রকম পরিস্থিতিতে অন্যকে নিজের অবস্থান পরিস্কার করা তো দূরের কথা তাকে কোনকিছু বোঝানোও যায়না। এ সময় ভেঙে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কাজ করুন যা আপনাকে সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে আপনিও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
এমনটি ঘটলে যা করবেন-
দোষের কারণ খুঁজুন
কেন সবাই আপনাকেই দোষারোপ করছে আগে তার কারণটা খুঁজে বের করুন। বোঝার চেষ্টা করুন, আসলেই আপনি কোনো দোষ করেছেন কিনা, নাকি সকলে আপনাকে ভুল বুঝছে। যে কাজের জন্য আপনাকে বারবার দোষী বলা হচ্ছে, সেটা নিয়ে গোড়া থেকে ভাবুন। এটা হতেই পারে যে ভুলটা আপনারই, কিন্তু তা চোখ এড়িয়ে গেছে। এমনটা হলে ক্ষমা চেয়ে নিন। আর যদি আপনার কোনো দোষই না থাকে, সেক্ষেত্রে বেশ ক’টি পদক্ষেপ নিন।
নিজেকে সামলান
এ রকম পরিস্থিতিতে অযথা ভেঙে না পড়ে নিজেকে সামলে নিন। এ সময় ঝোঁকের মাথায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না বা কাজ করবেন না যাতে আপনাকে পরে পস্তাতে হয়। নিজেকে অহেতুক দোষারোপ করবেন না। বেশি আক্ষেপ করলে তা আপনাকে মানসিকভাবে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন। নিজের মধ্যে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা শান্ত হওয়ার জন্য নিজেকে সময় দিন।
প্রমাণ করতে বলুন
যারা আপনাকে ভুল বুঝে দোষী সাব্যস্ত করছেন, সম্ভব হলে তাদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। কথা বলে কোনো সমাধান না হলে বলুন আপনার দোষ প্রমাণ করতে। আপনি যদি আদতেই দোষী না হয়ে থাকেন তাহলে আর আপনার ভয় কী? তবে হ্যা, মিথ্যা প্রমাণাদি দিয়ে যদি আপনাকে ফাঁসানো হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রমাণ করার কথা বলার চেয়ে না বলাই ভালো।
আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন
আপনি দোষী হন আর না হন, মিথ্যা অপবাদে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে যে কেউ। নিজের প্রতি নিজের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন। এটা আপনার জন্য খুবই জরুরি। আপনি যে দোষী নন, নিজেই নিজেকে বারবার সেটা বোঝাতে থাকুন। নিজের ভালো দিকগুলোর কথা ভাবুন। লোকজনের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখবেন না। বরং মানুষজনের সঙ্গে মিশুন এবং মন খুলে কথা বলুন। নির্ভয় হয়ে কোনো নতুন কাজ শুরু করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস দ্রুত ফিরে আসবে।
আত্মোন্নয়ন করুন
নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আত্মোন্নয়ন করা সবচেয়ে জরুরি। আপনার সঙ্গে যেটাই ঘটে থাকুক না কেন, নিজের আত্মিক উন্নয়ন করুন। নিজের দোষ-গুণ নিয়ে ভাবুন, নিজের আত্মসমালোচনা করুন। নিজের গুণাবলিকে বিকশিত করতে সচেষ্ট হোন। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিন। নিজেকে নিয়ে কখনোই নেতিবাচক কিছু ভাববেন না। বরং নিজের প্রতি এবং নিজের কাজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন।
লোকের কথায় কান দেবেন না
যারা আপনাকে বিনা করাণেই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করছে, তারা স্বভাবতই আপনাকে বোঝে না। যারা আপনাকে বোঝে না, বিপদে আপনার পাশে দাঁড়ায় না, তাদের কথায় কান না দেওয়াই ভালো। বরং এসব মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাাংর চেষ্টা করুন।
সুদক্ষ হয়ে উঠুন
আপনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন না কেন, কাজে নিজের দক্ষতা আরো বাড়ান। একজন দক্ষ মানুষের প্রয়োজন থাকে সব জায়গাতেই। আর তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না সহজে। ফলে তাকে হঠাত্ করে দোষী বলতেও দ্বিধা করবে লোকে। তাই নিজেকে কাজ-কর্মে করে তুলুন সুদক্ষ। এর পাশাপাশি আপনার কাজে লাগবে এমন বাড়তি কিছু বিষয়েও নিজের স্কিল বাড়ান। এতে বাড়তি সুবিধা পাবেন আপনি নিজেই।
নিজেই হয়ে উঠুন নিজের অনুপ্রেরণা
নতুন কাজ করতে, নতুন দায়িত্ব নিতে নিজেকে উত্সাহিত করুন। যা হবে তা ভালোর জন্যেই হবে – এমনটা ভাবলে দেখবেন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করছেন না। আনন্দ বোধ করেন এমন কাজের সঙ্গে জড়িত থাকুন। মহান ব্যক্তিদের জীবন সম্পর্কে জানুন, এতে আপনি অনুপ্রেরিত হবেন। আপনার পাশে যদি কেউ নাও থাকে, নিজের ওপর আস্থা রাখুন। দেখবেন আপনি একাই সব সামলে নিতে পারবেন।
আয়েশা সিদ্দিকা
শূটড়োঃ আমাদের সময় ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১১:৫৪ | আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:১৪
রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭
রবিবার, মার্চ ১৯, ২০১৭
BD News Tracker
No comments
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬
রবিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৬
BD News Tracker
No comments
| WWW.BDNEWSTRACKER.BLOGSPOT.COM |
রবীন্দ্রনাথকে রানু চিঠি লিখেছিল যখন, তখন রানুর বয়স বারো। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ৫৭। চুলে-দাড়িতে পাক ধরেছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, দাড়ি-গোঁফওয়ালা আমাকে দেখলে তুমি ভয় পাবে। রানু জবাব দিয়েছিল, আমার কাছে আপনার বয়স ২৭। কবিদের বয়স বাড়ে নাকি! সেই রানু বড় হলো, তার বিয়ে হয়ে গেল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা রানু ও ভানু উপন্যাসে প্রশ্ন উচ্চারিত হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ কি রানুর বিয়েতে বৃদ্ধ বয়সে পেয়েছিলেন ‘চোখের জলে দুখের শোভা?’ কিন্তু তারও আগে রবীন্দ্রনাথের বড় প্রেরণা তো ছিলেন তাঁর বউদি কাদম্বরী দেবী।
নারী-পুরুষের সম্পর্কের রসায়ন বড়ই বিচিত্র।
চার্লি চ্যাপলিনের জীবনও। চ্যাপলিনের প্রথম তিনটি বিয়ে টেকেনি। ভেঙে গেছে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই। অনেক সমালোচকই বলেন, চ্যাপলিনের এই বিয়ে ও সম্পর্কগুলোর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার বিষয় ছিল খুবই কম। চ্যাপলিনের খ্যাতি আর অর্থবিত্তের প্রতিই তাঁদের টান ছিল বেশি। ৫৪ বছর বয়সে চ্যাপলিনের সঙ্গে যখন তাঁর চতুর্থ স্ত্রী বিশ্বখ্যাত নাট্যকার ইউজিন ও’নীলের কন্যা ওনা ও’নীলের পরিচয় হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৭। ৩৭ বছর বয়সের ব্যবধান নিয়েই বিয়ে করেন দুজন। ৮৮ বছর বয়সে চ্যাপলিন যখন মারা যান, তখন চ্যাপলিনকে ঘিরে রেখেছিলেন এই ওনা, তাঁদের আট সন্তান ও নাতি-নাতনিরা। এই অসম সম্পর্কের একটি জবাব ছিল মেয়েটির কাছে। তিনি বলতেন, ‘আমি চ্যাপলিনকে তরুণ করেছি আর চ্যাপলিন আমাকে করেছে পরিপক্ব। এভাবেই আমরা দুজন দুজনের কাছাকাছি এসেছি।’
সব ক্ষেত্রে এই চ্যাপলিন-ওনা তত্ত্ব কাজে দেবে, তা নিশ্চয়ই নয়। তবে এটা হয়তো আমরা মানতেই পারি যে সম্পর্ক হওয়া বা তা টিকে যাওয়ার সঙ্গে ভালোবাসার প্রশ্নটাই আসল। আর সম্পর্ক টিকে থাকা না-থাকার রসায়নে বয়সের ফারাক সব ক্ষেত্রে ভূমিকা না-ও রাখতে পারে। কিন্তু বয়সের পার্থক্যের অসম সম্পর্ক ও বিয়ে দুনিয়াজুড়ে এখনো আলোচনা-সমালোচনা, গবেষণা ও জরিপের এক জনপ্রিয় বিষয়। এ ধরনের সম্পর্কের ভালো-মন্দ বা বিপদের দিক নিয়েও আছে মত-ভিন্নমত।
সম্পর্কের জটিলতা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে, ‘অসম’ সম্পর্কের জটিলতার কিছু বিশেষ দিক বিভিন্ন গবেষণায় সাধারণভাবে চিহ্নিত। এগুলো অনেকটা এ রকম: কর্তৃত্বের সমস্যা, বিশেষ করে যার বয়স বেশি, তার কর্তৃত্ব করার প্রবণতা, প্রজন্মের ব্যবধানের কারণে অনেক কিছু বোঝা না-বোঝা এবং ধারণ করা না-করার সমস্যা, দুজনের মধ্যে যিনি বয়সে বেশি বড়, তাঁর একটি জোরালো ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠা এবং নিজেকে পরিবর্তন করতে না চাওয়া বা শারীরিক-মানসিক সামর্থ্য ও চাওয়ার পার্থক্য। সমস্যাগুলো জানা থাকলে তা সামাল দেওয়া সহজ। ফলে ‘অসম’ সম্পর্কের মধ্যে যাঁরা আছেন, এসব মাথায় রেখে পথ চললে যাত্রাভঙ্গের আশঙ্কা কমলেও কমতে পারে।
বয়সের বেশি ব্যবধান বা অসম সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলেদের বয়স বেশি হবে, মেয়েদের কম—এই রকমটাই শুধু ঘটে না। নেপোলিয়ানের স্ত্রী জোসেফিন তার চেয়ে ৬ বছরের বড় ছিলেন। এমন ঘটনা অনেকই ঘটে, তবে হলিউডের খবরগুলো আমরা বেশি পাই। ডেমি মুর ৪২ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী অ্যাশটন কুচারকে। ৫ বছর টিকেওছিল সে বিয়ে। ম্যাডোনার বয়স যখন ৫১, তার প্রেমিক জেসাস লুজ ছিলেন ২৩।
চার্লি চ্যাপলিনের জীবনও। চ্যাপলিনের প্রথম তিনটি বিয়ে টেকেনি। ভেঙে গেছে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই। অনেক সমালোচকই বলেন, চ্যাপলিনের এই বিয়ে ও সম্পর্কগুলোর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার বিষয় ছিল খুবই কম। চ্যাপলিনের খ্যাতি আর অর্থবিত্তের প্রতিই তাঁদের টান ছিল বেশি। ৫৪ বছর বয়সে চ্যাপলিনের সঙ্গে যখন তাঁর চতুর্থ স্ত্রী বিশ্বখ্যাত নাট্যকার ইউজিন ও’নীলের কন্যা ওনা ও’নীলের পরিচয় হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৭। ৩৭ বছর বয়সের ব্যবধান নিয়েই বিয়ে করেন দুজন। ৮৮ বছর বয়সে চ্যাপলিন যখন মারা যান, তখন চ্যাপলিনকে ঘিরে রেখেছিলেন এই ওনা, তাঁদের আট সন্তান ও নাতি-নাতনিরা। এই অসম সম্পর্কের একটি জবাব ছিল মেয়েটির কাছে। তিনি বলতেন, ‘আমি চ্যাপলিনকে তরুণ করেছি আর চ্যাপলিন আমাকে করেছে পরিপক্ব। এভাবেই আমরা দুজন দুজনের কাছাকাছি এসেছি।’
সব ক্ষেত্রে এই চ্যাপলিন-ওনা তত্ত্ব কাজে দেবে, তা নিশ্চয়ই নয়। তবে এটা হয়তো আমরা মানতেই পারি যে সম্পর্ক হওয়া বা তা টিকে যাওয়ার সঙ্গে ভালোবাসার প্রশ্নটাই আসল। আর সম্পর্ক টিকে থাকা না-থাকার রসায়নে বয়সের ফারাক সব ক্ষেত্রে ভূমিকা না-ও রাখতে পারে। কিন্তু বয়সের পার্থক্যের অসম সম্পর্ক ও বিয়ে দুনিয়াজুড়ে এখনো আলোচনা-সমালোচনা, গবেষণা ও জরিপের এক জনপ্রিয় বিষয়। এ ধরনের সম্পর্কের ভালো-মন্দ বা বিপদের দিক নিয়েও আছে মত-ভিন্নমত।
সম্পর্কের জটিলতা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে, ‘অসম’ সম্পর্কের জটিলতার কিছু বিশেষ দিক বিভিন্ন গবেষণায় সাধারণভাবে চিহ্নিত। এগুলো অনেকটা এ রকম: কর্তৃত্বের সমস্যা, বিশেষ করে যার বয়স বেশি, তার কর্তৃত্ব করার প্রবণতা, প্রজন্মের ব্যবধানের কারণে অনেক কিছু বোঝা না-বোঝা এবং ধারণ করা না-করার সমস্যা, দুজনের মধ্যে যিনি বয়সে বেশি বড়, তাঁর একটি জোরালো ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠা এবং নিজেকে পরিবর্তন করতে না চাওয়া বা শারীরিক-মানসিক সামর্থ্য ও চাওয়ার পার্থক্য। সমস্যাগুলো জানা থাকলে তা সামাল দেওয়া সহজ। ফলে ‘অসম’ সম্পর্কের মধ্যে যাঁরা আছেন, এসব মাথায় রেখে পথ চললে যাত্রাভঙ্গের আশঙ্কা কমলেও কমতে পারে।
বয়সের বেশি ব্যবধান বা অসম সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলেদের বয়স বেশি হবে, মেয়েদের কম—এই রকমটাই শুধু ঘটে না। নেপোলিয়ানের স্ত্রী জোসেফিন তার চেয়ে ৬ বছরের বড় ছিলেন। এমন ঘটনা অনেকই ঘটে, তবে হলিউডের খবরগুলো আমরা বেশি পাই। ডেমি মুর ৪২ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী অ্যাশটন কুচারকে। ৫ বছর টিকেওছিল সে বিয়ে। ম্যাডোনার বয়স যখন ৫১, তার প্রেমিক জেসাস লুজ ছিলেন ২৩।
অসম সম্পর্কের জটিলতার কিছু বিশেষ দিক বিভিন্ন গবেষণায় সাধারণভাবে চিহ্নিত। এগুলো অনেকটা এ রকম; কর্তৃত্বের সমস্যা, বিশেষ করে যার বয়স বেশি, তার কর্তৃত্ব করার প্রবণতা, প্রজন্মের ব্যবধানের কারণে অনেক কিছু বোঝা না-বোঝা এবং ধারণ করা না-করার সমস্যা
আমাদের দেশে অনেক ছেলেকেই জানি ও দেখি, যারা তাদের চেয়ে বেশি বয়সী মেয়েদের প্রেমে পড়ে বা আকৃষ্ট হয়। সম্পর্ক তো আর একতরফা হয় না, বেশি বয়সী মেয়েটির সাড়া বা প্রত্যাখ্যানের ওপরই নির্ভর করে অসম সম্পর্কটি গড়ে ওঠা বা না-ওঠা। এটা ছেলেদের একটা বিশেষ ধরনের পছন্দ। বলা ভালো, একটা নির্দিষ্ট বয়সেই এই প্রবণতা বেশি জোরালো থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের ক্ষেত্রে আবার তা কেটেও যায়। ব্যতিক্রমগুলোই অসম সম্পর্ক হিসেবে রয়ে যায়, টিকে থাকে।
আবার এমন অনেক মেয়েকে দেখেছি ও জানি, যারা আকৃষ্ট হয় তাদের চেয়ে বেশি বয়সী ছেলেদের প্রতি। একটি মেয়ে হয়তো কোনো সুযোগে তার চেয়ে বেশ বেশি বয়সী ছেলের সংস্পর্শে এসেছে, ছেলেটি তার বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণেই নানা ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। অথবা ছেলেটি হয়তো মেয়েটিকে মুগ্ধ করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই নিজেকে সেভাবে তুলে ধরে। বেশি বয়সী ছেলেদের অভিজ্ঞতা, বাস্তব জ্ঞান বা প্রজ্ঞার প্রতি একটি মেয়ের এই মুগ্ধতার সরাসরি ফল হচ্ছে, সমসাময়িক ছেলেদের তখন আর খুব ‘ম্যাচিউরড’ মনে হয় না। এই চক্রে যে মেয়ে একবার পড়ে, তাদের জন্য বের হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যতিক্রমও আছে, রানু অধিকারী ঠিকই বের হয়ে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ-মুগ্ধতা থেকে।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের আমার বিষণ্ন বেশ্যাদের স্মৃতি উপন্যাসে দেখি, থুড়থুড়ে বুড়ো খুঁজছেন অনাঘ্রাতা কুমারীকে, আর কলেরার দিনগুলিতে প্রেম উপন্যাসে দুই নারী-পুরুষ প্রথম জীবনে প্রেমে পড়ে আলাদা আলাদা বিয়ে করে দাদা-দাদি হয়ে যাওয়ার পর নিজেরা আবারও বিয়ে করে জীবনসায়াহ্নে এসে। আসলে সম্পর্ক এমনই জিনিস, এটা শুধু বয়সের বেশি পার্থক্য বা মেয়েটি ছেলেটির চেয়ে বড় এসব ‘অসম’ দোহাইয়ের কারণে আটকে থাকে না, দুই বুড়োবুড়িও প্রেম করতে পারে, আর পারে শেষ বয়সে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে।
সম্পর্ক তো হতেই পারে, কিন্তু এ ধরনের ‘অসম’ সম্পর্ক টিকে থাকে কি না সেটা এক জরুরি বিবেচনা বটে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি জরিপ এ বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত হয়েছে। জরিপের ফল হচ্ছে, বয়সের ব্যবধান যত, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার হারও তত বেশি। এই জরিপ বলছে, বয়সের ব্যবধান ৫ হলে বিচ্ছেদের হার ১৮ শতাংশ, ১০ বছর হলে ৩৯ আর ২০ বছর হলে এই হার ৯৫ শতাংশ! যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের ওপর চালানো এই জরিপ আমাদের দেশের জন্য খুব বাস্তব না-ও হতে পারে। আমাদের দাদা-দাদি, নানা-নানি বা এর আগের প্রজন্ম তো অসম বিয়ে আর সম্পর্কের মধ্য দিয়েই জীবন পার করে গেছেন!
আবার অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, বেশি বয়সের মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের সম্পর্কের হার দিন দিন বাড়ছে। ৫৫ ভাগ নারী স্বীকার করেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময় কম বয়সী পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছেন। ভ্যালেরি গিবসন নামের একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এটা পৃথিবীতে চিরকাল ছিল, বাস্তব কারণে আগে তা প্রকাশিত হতো না, বা পরিণতি পেত না, এখন পাচ্ছে। তবে এই ধরনের সম্পর্ক সাধারণত টেকে না, কিন্তু তার কারণ হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ বয়সের পার্থক্যকে দায়ী করছেন না, দায়ী করছেন অন্য বিয়েগুলো যেসব কারণে ভাঙে, সেসব কারণকেই।
একটি বহু চলতি কথা দিয়ে শেষ করি, প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়স, দূরত্ব, উচ্চতা বা ওজন—এসব নাকি শুধুই ‘সংখ্যা’। ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জরিপের কথা উল্লেখ করলাম, সেটাও সংখ্যারই হিসাব। প্রেম-ভালোবাসা বা সম্পর্কের চেয়ে নিছক সংখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কীভাবে! সব ছাপিয়ে যুগে যুগে প্রেম-ভালোবাসাই তো এগিয়ে থেকেছে। সম বা অসম এখানে খুব পাত্তা পায় না।
আবার এমন অনেক মেয়েকে দেখেছি ও জানি, যারা আকৃষ্ট হয় তাদের চেয়ে বেশি বয়সী ছেলেদের প্রতি। একটি মেয়ে হয়তো কোনো সুযোগে তার চেয়ে বেশ বেশি বয়সী ছেলের সংস্পর্শে এসেছে, ছেলেটি তার বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণেই নানা ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। অথবা ছেলেটি হয়তো মেয়েটিকে মুগ্ধ করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই নিজেকে সেভাবে তুলে ধরে। বেশি বয়সী ছেলেদের অভিজ্ঞতা, বাস্তব জ্ঞান বা প্রজ্ঞার প্রতি একটি মেয়ের এই মুগ্ধতার সরাসরি ফল হচ্ছে, সমসাময়িক ছেলেদের তখন আর খুব ‘ম্যাচিউরড’ মনে হয় না। এই চক্রে যে মেয়ে একবার পড়ে, তাদের জন্য বের হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যতিক্রমও আছে, রানু অধিকারী ঠিকই বের হয়ে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ-মুগ্ধতা থেকে।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের আমার বিষণ্ন বেশ্যাদের স্মৃতি উপন্যাসে দেখি, থুড়থুড়ে বুড়ো খুঁজছেন অনাঘ্রাতা কুমারীকে, আর কলেরার দিনগুলিতে প্রেম উপন্যাসে দুই নারী-পুরুষ প্রথম জীবনে প্রেমে পড়ে আলাদা আলাদা বিয়ে করে দাদা-দাদি হয়ে যাওয়ার পর নিজেরা আবারও বিয়ে করে জীবনসায়াহ্নে এসে। আসলে সম্পর্ক এমনই জিনিস, এটা শুধু বয়সের বেশি পার্থক্য বা মেয়েটি ছেলেটির চেয়ে বড় এসব ‘অসম’ দোহাইয়ের কারণে আটকে থাকে না, দুই বুড়োবুড়িও প্রেম করতে পারে, আর পারে শেষ বয়সে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে।
সম্পর্ক তো হতেই পারে, কিন্তু এ ধরনের ‘অসম’ সম্পর্ক টিকে থাকে কি না সেটা এক জরুরি বিবেচনা বটে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি জরিপ এ বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত হয়েছে। জরিপের ফল হচ্ছে, বয়সের ব্যবধান যত, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার হারও তত বেশি। এই জরিপ বলছে, বয়সের ব্যবধান ৫ হলে বিচ্ছেদের হার ১৮ শতাংশ, ১০ বছর হলে ৩৯ আর ২০ বছর হলে এই হার ৯৫ শতাংশ! যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের ওপর চালানো এই জরিপ আমাদের দেশের জন্য খুব বাস্তব না-ও হতে পারে। আমাদের দাদা-দাদি, নানা-নানি বা এর আগের প্রজন্ম তো অসম বিয়ে আর সম্পর্কের মধ্য দিয়েই জীবন পার করে গেছেন!
আবার অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, বেশি বয়সের মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের সম্পর্কের হার দিন দিন বাড়ছে। ৫৫ ভাগ নারী স্বীকার করেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময় কম বয়সী পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছেন। ভ্যালেরি গিবসন নামের একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এটা পৃথিবীতে চিরকাল ছিল, বাস্তব কারণে আগে তা প্রকাশিত হতো না, বা পরিণতি পেত না, এখন পাচ্ছে। তবে এই ধরনের সম্পর্ক সাধারণত টেকে না, কিন্তু তার কারণ হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ বয়সের পার্থক্যকে দায়ী করছেন না, দায়ী করছেন অন্য বিয়েগুলো যেসব কারণে ভাঙে, সেসব কারণকেই।
একটি বহু চলতি কথা দিয়ে শেষ করি, প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়স, দূরত্ব, উচ্চতা বা ওজন—এসব নাকি শুধুই ‘সংখ্যা’। ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জরিপের কথা উল্লেখ করলাম, সেটাও সংখ্যারই হিসাব। প্রেম-ভালোবাসা বা সম্পর্কের চেয়ে নিছক সংখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কীভাবে! সব ছাপিয়ে যুগে যুগে প্রেম-ভালোবাসাই তো এগিয়ে থেকেছে। সম বা অসম এখানে খুব পাত্তা পায় না।
সূত্র প্রথম আলো এ কে এম জাকারিয়া | , নভেম্বর ৩০, ২০১৬
রবিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৬
BD News Tracker
No comments
| www.bdnewstracker.blogspot.com |
একটা জীবনে একাধিক সম্পর্ক নিয়েই আমাদের পথচলা। অনুভূতির নানা রঙে সাজানো থাকে সম্পর্ক। কখনো সম্পর্ক মধুর, কখনো তিক্ত। সম্পর্কের টানাপোড়েন জীবনে চলেই। পরস্পর সম্পর্কে চিড় ধরলে কী করে তা সামাল দেওয়া যায়, তা জানা চাই।
আমরা নিজেরা যদি একটু ছাড় দিই, বোঝাপড়া করি নিজেদের মধ্যে, তাহলে আবার শীতল সম্পর্কও উষ্ণ হয়ে ওঠে। কৌশলটা কেবল জানা চাই। কোনো কোনো মানুষের স্বভাবই থাকে অন্যের ওপর কর্তৃত্ব দেখানোর। পরিবারেই হোক, বন্ধুদের বেলাতেই হোক কিংবা কর্মক্ষেত্রে। কেউ কেউ হয়তো নেহাত সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে এই কর্তৃত্ব মেনে নেয়। কখনো মুখ ফুটে কিছু বললেই হলো। ব্যস, ঝামেলা বেধে গেল।
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের ওঠানামা, সম্পর্কে জট বাঁধে কখনো কখনো। ভালোবেসে কিংবা দেখে-শুনে হোক, বিয়ে মানে অনেক সময় একটি জটিল অঙ্কও বটে। তবে বুঝতে পারলে উত্তরটা বেশ সোজা। শ্বশুরবাড়ির রসায়নটিও কম জটিল নয়। নতুন বউ, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেবে, কেবল এই মানিয়ে নেওয়া যেন সেই বউটির দায়িত্ব, অন্যের কোনো দায়ই নেই। পরিবারের সবাই যদি ঘরে আসা নতুন বউকে আদর করে মানিয়ে নেয়, তাহলে সবার লাভ।
পরিবারে সবার মতামতও এক হয় না। মনোমালিন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। এমন কিছু ঘটলে দুপক্ষই সামাল দিন।
সামনাসামনি মিটিয়ে ফেলুন। অযথা তিলকে তাল না করাই ভালো।
মতান্তর হলোই বা! বউকেও বলি। নতুন বিয়ে। স্বামীকে চোখে হারাবেন ঠিকই। কিন্তু সংসারে সবার সঙ্গে আলাপ বাড়াতে হবে, তাদেরও সময় দিতে হবে।
![]() |
| www.bdnewstracker.blogspot.com |
অনেক স্বামী বড় খুঁতখুঁতে। পান থেকে চুন খসলে মেজাজ গরম। সবকিছু নিখুঁত হতে পারে না—এই সরল সত্যটিই মানতে চান না স্বামী। এ বড় অন্যায়। আধুনিক নাগরিক জীবনের মর্মে ঢুকে গেছে দৌড় দৌড় ইঁদুরদৌড় আর টেনশন। তাই সবাই ব্যস্ত। স্বামী-স্ত্রী দুজনে কর্মজীবী হলেও সংসারের বড় দায়িত্ব যেন স্ত্রীতেই বর্তায়। এই কালচার এখনো তেমন পাল্টায়নি।
অফিস থেকে ফিরে স্বামী অফিসফেরত স্ত্রীর কাছে দাবি করেন ধূমায়িত এক কাপ চা ও নাশতা। শেয়ারিং ও কেয়ারিং যেন একপেশে, তবে ব্যতিক্রমও আছে। স্বামী-স্ত্রীর সংসারে অবশ্য মনান্তর হবে, ঝগড়াঝাঁটি, মান-অভিমান, ভুল-বোঝাবুঝির ক্ষণগুলো আসবে, একান্ত কাছের এই সম্পর্কের এই রংও বদলায়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-অমিলও হবে। কেউ হয়তো ‘বেড টি’ ভালোবাসেন, কেউ দাঁত না মেজে খান না। কেউ গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমান, কেউ চান ঘর অন্ধকার ঘুম। আলো জ্বাললে ঘুমাতে পারেন না।
কিন্তু অমিলগুলো বড় করে দেখা কেন? কম-বেশি ছাড় দিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিলেই হয়। পরিবারের পাঁচজনের সঙ্গে তো পথ চলতে হবে। সমস্যাকে যদি মনে করা হয় চলার পথে নিজের শক্তিপরীক্ষা—জীবন হলো কৌতুক রস বজায় রেখে চলা, ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে শেখা—ভালো হলো না?
একজনের অপরের ওপর প্রভুত্ব বিস্তারের প্রয়াস কেন? নিজের মূল্যবোধ অন্যের ওপর চাপানো কেন? বাড়ির বাজার কী হবে, বউ কার সঙ্গে মিশবে, কোন পোশাক পরবে, সন্তানের সব ধরনের সিদ্ধান্তই চাপান স্বামী। এটি না করে দৃষ্টিভঙ্গিতে উদারতা আনতে হবে। অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে তিক্ততা বাড়বে, সম্পর্ক নষ্ট হবে।
বরং ভালোবাসার মানুষকে স্পেস দিন, বুঝতে শিখুন, পরস্পর বোঝাপড়া দৃঢ় করুন। পরস্পর বন্ধু হয়ে উঠুন। দুজনে একসঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটান। বিশেষ কোনো দরকার না থাকলেও ফোন করে, এসএমএস করে খোঁজখবর নিন।
কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব থাকে, এমন কিছু বন্ধুও হয় কখনো কখনো। ধরা যাক, বন্ধুরা মিলে কোথাও যাবে, সবটার মধ্যে একধরনের ছড়ি ঘোরানোর প্রবণতা থাকবে তাঁর। এটি থেকে বন্ধুত্বেও ফাটল ধরে।
আমরা যেন বুঝি মনান্তর মিটে যেতে যেতেও মিটে না যখন দুয়ার আগলে দাঁড়ায় অহং। পরস্পরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে একই টিমের খেলোয়াড় ভাবা সুখের চাবিকাঠি।
অফিসেও সে রকম সহকর্মীদের সঙ্গে অশান্তি হয়। অফিসের ছোট অশান্তি যেন বড় না হয়, তা-ও দেখতে হবে দুপক্ষকেই। প্রয়োজন নিজের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগ বাড়ানো। ছোটখাটো মনোমালিন্য মনে পুষে না রাখা।
সব শেষে ধার করা একটি ছোট্ট গল্প দিয়ে শেষ করি।
একটি বালক ও একটি বালিকা একত্রে খেলছিল। বালকটির কাছে কতগুলো মার্বেল ছিল আর বালিকাটির কাছে ছিল কিছু রসগোল্লা। বালকটি বালিকাকে বলল, যদি সে তার মিষ্টিগুলো তাকে দেয়, তাহলে সে তার সব মার্বেল তাকে দিয়ে দেবে। বালিকাটি রাজি হয়ে গেল।
বালকটি সবচেয়ে বড় ও সুন্দর মার্বেলটি লুকিয়ে রেখে বাকি মার্বেলগুলো বালিকাকে দিয়ে দিল। বিনিময়ে বালিকাটি প্রতিশ্রুতিমতো তার সব মিষ্টি বালকটিকে দিয়ে দিল।
ওই রাতে বালিকাটি একটি প্রশান্তির ঘুম দিল। কিন্তু বালকটি একটুও ঘুমাতে পারল না, সারা রাত তাকে এই ভাবনা অস্থির করে রাখল যে সে যেভাবে তার সবচেয়ে সুন্দর মার্বেলটি আড়াল করে রেখেছে, বালিকাটিও সেরূপ কিছু রসগোল্লা তার কাছে লুকিয়ে রাখেনি তো?
তেমনি সম্পর্কের মধ্যে নিজের শতভাগটি না দিলে সব সময় সন্দেহ হতে থাকবে যে অন্যজনও বোধ হয় তার শতভাগটি আমাকে দেয়নি।...বিষয়টি সব রকম সম্পর্কের ক্ষেত্রেই সত্য; যেমন প্রেম, বন্ধুত্ব, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পর্ক ইত্যাদি।
সব ব্যাপারে নিজের শতভাগটি দিলে শান্তিতে ঘুম হবে। তবে নিজের শতভাগ চাপিয়ে দিতে চাইলে অন্যের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সেটাও মাথায় রাখা ভালো।
মধুর সম্পর্কের গল্প করা যায় না, নিজেকেই এ জন্য চেষ্টা করতে হয়।
সুত্র প্রথম আলো - অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৬
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)












